SAVE WEST BENGAL FROM TRINAMOOL CONGRESS

RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Thursday, March 5, 2020

মোদী সরকার ফের প্রমাণ করে দিয়েছে তথ্য পরিসংখ্যান যত বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতিতে তৈরি করা হোক বা নিখুঁত হোক সেটা যদি সরকারের মনঃপুত না হয় বা সরকারের সাফল্যকে বিজ্ঞাপিত না করে তবে তা গ্রহণ করা হবে না এবং প্রকাশ করা হবে না। উলটে তাকে ভুল বা ত্রুটিপূর্ণ বলে বাতিল করে দেওয়া হবে। ক্ষমতায় আসার পর থেকে নরেন্দ্র মোদীরা নতুন এই ঘরানা চালু করেছেন। এই সরকারের অযোগ্যতা, অক্ষমতা, ব্যর্থতা কোনও অবস্থাতেই স্বীকার করা হবে না। যে সমস্ত সরকারি রিপোর্ট বা তথ্য পরিসংখ্যান সরকারের এই ব্যর্থতার দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করছে সেইসব রিপোর্ট যাতে দিনের আলো দেখতে না পারে তার ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। আরএসএস-বিজেপি পরিচালিত এই কট্টর হিন্দুত্ববাদী ও উগ্র জাতীয়তাবাদী সরকার ভাবতেই পারে না তারা ভুল করতে পারে, অদক্ষ-অযোগ্য হতে পারে। তারা মনে করে তারা যা ভাবে, যা বলে, যা করে তা অভ্রান্ত। তাদের থেকে সেরা কিছু হতে পারে না। তাই অর্থনীতি গভীর সঙ্কটে পড়লেও, ধুঁকতে ধুঁকতে গাড্ডায় পড়তে থাকলেও মোদী সরকার তা স্বীকার করে না। মনে করে এবং প্রচার করে সব ঠিকঠাক চলছে। যেটুকু সমস্যা সেটা সাময়িক, মাঝে মধ্যে এমন হতেই থাকে, কদিন পর ঠিক হয়ে যায়। আসলে অর্থনীতির ধারাবাহিক অবনতির কথা যদি স্বীকার করা হয় তাহলে সরকারকে দুটি দায় মেনে নিতে হয়। এক, তাদের পরিচালনায় ব্যর্থতা ও অযোগ্যতার ফলেই এই সঙ্কট ঘনীভূত হয়েছে। দুই, এই সঙ্কট থেকে অর্থনীতিকে বের করে আনায় তারা ব্যর্থ। এটা স্বীকার করে নিলে মোদী-শাহদের ক্ষমতায় থাকার কোনও নৈতিক অধিকারই থাকে না। তাই ব্যর্থতা-অপদার্থতা থাকলেও তাকে অস্বীকার করে মানুষের চোখে ধুলো বিভ্রান্তি ছড়াতে তারা এই নয়া কৌশল নিয়েছে। এই কৌশলেরই অংশ হিসাবে এসেছে সরকারি তথ্য পরিসংখ্যান প্রকাশ না করে চাপা দেওয়া। শ্রম দপ্তরের প্রকাশিত নিয়মিত রিপোর্টে কর্মসংস্থানের প্রবণতা জানা যেত। যেহেতু সেই রিপোর্টে কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যার ধূসর ছবি ফুটে উঠছি‍ল তাই সেই রিপোর্ট প্রকাশই বন্ধ করে দেওয়া হলো। ফলে এখন শিল্পক্ষেত্রে কর্মীসংখ্যা কমে গেলেও মানুষের কাছে তা অজানা থেকে যাবে। শিল্পে কর্মসংস্থানের বাস্তব ছবিটাই কেউ দেখতে পাবে না। কৃষিতে ভয়াবহ সঙ্কটের একটা প্রতিফলন ঋণগ্রস্ত কৃষকের আত্মহত্যার ঘটনা। ক্রমাগত কৃষক আত্মহত্যার ঘটনা বাড়তে থাকায় মোদী সরকার এই তথ্য জানার মূল উৎসটাই বন্ধ করে দেয়। এনসিবিআর’র তথ্যে পৃথকভাবে কৃষক আত্মহত্যার পরিসংখ্যান দেওয়া হয়। সেটা বন্ধ করে দিয়েছে। তেমনি বিকাশের হার কমতে থাকায় জিডিপি গণনার পদ্ধতিটাই পালটে দেওয়া হয়। এমন এক নতুন পদ্ধতি চালু করা হয় যাতে অঙ্কের নিয়মেই বৃদ্ধির হার দুই থেকে তিন শতাংশ বাড়িয়ে দেখানো সম্ভব। বর্তমানে বিতর্কিত এই পদ্ধতিতে জিডিপি মাপা হয় যা অধিকাংশ অর্থনীতিবিদই সন্দেহের চোখে দেখছেন। গত লোকসভা নির্বাচনের আগে জাতীয় নমুনা সমীক্ষার রিপোর্টে জানা যায় দেশে বেকারি বা কর্মসংস্থানহীনতার ভয়াবহ চিত্র। ৪৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে বেকারির হার। একে ত্রুটিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে প্রকাশ বন্ধ করে ভোটের আগে মুখ রক্ষার চেষ্টা হয়েছে। সম্প্রতি পরিবারভিত্তিক ক্রয়ক্ষমতা সংক্রান্ত রিপোর্টে দেখা গেছে গত ২০১২ সাল থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ৩.৭ শতাংশ কমে গেছে। স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে কোনও দিন এমন ভয়াবহ অবস্থা দেখা যায়নি। তাই এই রিপোর্টও সরকারিভাবে প্রকাশ বন্ধ করে দিয়ে‍‌ছে মোদী সরকার। অন্ধ হলে প্রলয় বন্ধ থাকে না। বালিতে মুখ গুঁজেও মরুঝড় এড়ানো যায় না।

তথ্য গোপন করে সত্য ঢাকা যায় না - Ganashakti Bengali