SAVE WEST BENGAL FROM TRINAMOOL CONGRESS

RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Thursday, March 5, 2020

দিল্লির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঘরহারা মানুষের ঢল নেমেছে। অভিশপ্ত নগরী ছেড়ে তারা অন্য কোনও জায়গায় পাড়ি জমিয়েছেন যেখানে এই হিংসার চেহারা দেখা যাবে না, সন্তানদের নিয়ে দুর্গতরা নিরাপদে থাকতে চান। দিল্লিতে দাঙ্গা থামার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দিল্লির হিংসা প্রসঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য প্রচারের নিন্দা করে তদন্ত ও বিচারের আহ্বান জানিয়েছে। রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র মন্তব্য করেছেন, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে যাঁরা প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন তাদের বিক্ষোভ প্রদর্শনের অধিকার নিশ্চয়ই রয়েছে। রাষ্ট্রসঙ্ঘ চায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলির আরও সংযত আচরণ করা উচিত। প্রায়শই সেটা দেখা যাচ্ছে না, যা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তাহলো নিরপেক্ষ মনোভাব ছেড়ে পক্ষপাতের রাস্তায় চলছে তারা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে সহিংসতার যেসব চিত্র ও বর্ণনা প্রকাশ পেয়েছে তাতে আইন প্রয়োগ ও নাগরিকদের জীবনরক্ষায় প্রশাসনিক ব্যর্থতা স্পষ্ট। রাজধানী দিল্লির মতো জায়গায় এতবড় রক্তপাত ঠেকাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে। আরএসএস-বিজেপি সমাজে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভাজন এনে দেশের ভবিষৎকে কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছে? পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে, নিষ্ঠুরতা, ভীতি, ঘৃণা ও সহিংসতায় হত্যার পরিমণ্ডল তৈরি করে সামাজিক অনিশ্চয়তার দিকে দেশকে ঠেলে দিচ্ছে শাসকগোষ্ঠী। দেশের নাগরিকরা এখন আর এই শাসকদের বিশ্বাস করতে চাইছে না। মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস দিন দিন লোপ পাওয়ার পেছনে রয়েছে তাদের কৃতকর্ম। এরই পাশাপাশি সরকারবিরোধীদের দমিয়ে রাখার বড় লক্ষ্যও রয়েছে। সরকারের অভিসন্ধির পেছনে যে চরম নিষ্ঠুরতা লুকিয়ে রয়েছে তা ক্রমে ক্রমে দৃশ্যমান হচ্ছে। বিজেপি’র বিষাক্ত রাজনীতির ছোবল থেকে সংখ্যালঘু, বিশেষ করে মুসলিমরা রেহাই পাচ্ছেন না। এভাবেই হিংসার রাজনীতির বিস্ফোরণ ঘটেছে। এটা উল্লেখ করতেই হবে, দশকের পর দশক ধরে এমন নিকৃষ্ট সাম্প্রদায়িক সহিংসতা রাজধানী দিল্লি প্রত্যক্ষ করেনি। যেসব রাষ্ট্রকে আমাদের বর্তমান শাসকরা তাদের মিত্র বলে গণ্য করে দেখা যাচ্ছে তারাই এখন ভারতের উপর ভয়ঙ্করভাবে বিরূপ। চোখা চোখা বাক্যবাণ ব্যবহার করে তারা ভারত সরকারকে অভিযুক্ত করছে। মালয়েশিয়া, তুরস্ক সহ মুসলিম দেশগুলি বলছে, সংখ্যালঘুদের নিশানা করে বেছে বেছে দিল্লিতে হামলা চালানো হচ্ছে। একধাপ এগিয়ে তুরস্ক জানিয়ে দিয়েছে, ভারতে ‘মুসলিম’ গণহত্যা চলছে। ইতিপূর্বে তুরস্ক কাশ্মীর প্রসঙ্গ নিয়েও তাদের উদ্বেগ জানিয়ে রেখেছে। মুসলিম দেশগুলির সংগঠন ওআইসি-ও মনে করে দিল্লিতে আক্রমণের বলি হচ্ছে মুসলিমরা। যদিও ভারত সরকার স্বাভাবিক কারণে এধরনের অ‍‌ভিযোগকে পাত্তা দিতে চায়নি। তাই বলে যে হত্যাকাণ্ড চলছে তাকে কি এককথায় নস্যাৎ করা যায়? গোটা দুনিয়ার চোখের সামনে ভারতের হিংসার রাজনীতির যে চেহারা ফেটে পড়েছে তাকে সরকার কেমন করে নস্যাৎ করবে? দাঙ্গার ঘটনার সময় পুলিশ হয় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছে নয়তো হামলাকারীদের বাধা দিতে এগিয়ে যায়নি। দাঙ্গা বন্ধের চেষ্টা না করে পুলিশ স্বেচ্ছায় হাঙ্গামায় জড়িয়ে পড়েছে, আর হাঙ্গামাকারীদের প্রশ্রয় দিতেও তাদের দেখা গেছে। দিল্লির সংঘর্ষ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, মার্কিন কংগ্রেসের একাধিক সদস্য। এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন মনে করে সংখ্যালঘুদেরই বেছে বেছে নিশানা করে হামলা চালানো হচ্ছে, হত্যা করা হচ্ছে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা বিধানে ভারত সরকারের নিদারুণ ব্যর্থতা দুর্ভাগ্যজনক। বিশ্বের অধিকাংশ দেশই ভারতের ব্যর্থতা নিয়ে সমালোচনা ও নিন্দায় মুখর। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম লিখেছে : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখে শান্তি ও সৌভ্রাতৃত্বের কথা মানায় না। দেশকে এ জায়গায় নিয়ে এসেছেন তিনিই। অগণিত মানুষের মৃত্যু ও সহিংসতার দায় তাঁরই। কোনও মতেই এই দায়িত্ব তিনি এড়াতে পারেন না। কারণ রাজধানীতে যে হিংসার রাজনীতির বিস্ফোরণ ঘটেছে তা থেকে মোদী, অমিত শাহ ও তাদের সাঙ্গোপাঙ্গরা কোনও মতেই রেহাই পাবে না।

লাগামছাড়া হিংসা - Ganashakti Bengali